চাঁদাদাবি ও ব্যবসায়ীকে মারধরে অভিযুক্তঃ বিএনপি নেতা জামির হোসেনের দলীয় সকল পদ স্থগিত
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
চাঁদাদাবি ও ব্যবসায়ী মফিজুর রহমানকে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মারধরের অভিযোগে,
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জামির হোসেনের সকল দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে।
৭ই মে শুক্রবার যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় আপনাদের অধিনস্থ ইউনিট বাকড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জামির হোসেনকে গত ১৯ এপ্রিল কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়। তবে তার জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তার ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদসহ প্রাথমিক সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হল।
তবে বিগত আন্দলোন সংগ্রামে তাহার ভূমিকা বিবেচনায় বিষয়টি সম্মানজনক নিস্পত্তি ও ভবিষ্যতে স্থগিতদেশ পূনঃ বিবেচনার সুযোগ আপনার/আপনাদের শক্ত পদক্ষেপের উপর নির্ভরশীল বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
বাঁকড়া ইউনিয়নবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা, গত বছর একটি যাত্রাপালার জন্য চাঁদা দাবি করা হলে তা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা জামিরের সঙ্গে মফিজুরের মনোমালিন্য তৈরি হয়।
এরই জেরে গত ১১ এপ্রিল জামির হোসেন তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার অভিযোগ তুলে
ব্যবসায়ী মফিজের দোকানে আসেন। পরে তিনি দাবি করেন, তার অ্যাকাউন্ট থেকে ৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং এর জন্য দোকান কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন।
ভুক্তভোগী মফিজুর রহমান আরো বলেন ওইদিন সন্ধ্যায় দোকানের বিকাশ কাস্টমার কেয়ার বন্ধ থাকায় বিএনপি নেতা জামির হোসেনেরকে পরদিন আসতে বলেন তিন,এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জামির হুমকি দিয়ে চলে যান। পরে জামির তার অনুসারীদের নিয়ে দোকানে হামলা চালান এবং লাঠিসোঁটা ও চেয়ার দিয়ে ভুক্তভোগীকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে টেনে হিছড়ে স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে আবারও নির্যাতন করা হয়।
এঘটনার সিসিটিভির ফুটেজ দৈনিক সময় বাংলাদেশ পত্রিকার ফেইসবুক ফেইজ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশের পর দেশব্যাপী নিন্দার জড় উঠে,
পরবর্তিতে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা জামির হোসেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতায় বিষয়টি সমজতা করার চেষ্টা চালায়, কিন্তু ভুক্তভোগীর শক্ত অবস্থান ও অভিযোগের ভিত্তিতে সময় বাংলাদেশ সহ একাধিক সংবাদ মাধ্যমে বিএনপি নেতা জামির হোসেনের বিরুদ্ধে আইনি ও দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবিতে বার বার সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা জামির হোসেনের দলীয় সকল পদ সাময়ীক ভাবে স্থগিত করা হয়।
তবে ঘটনাকালীন সময় এ অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা জামির হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, চাঁদাবাজির ঘটনা একদম ভিত্তিহীন। মফিজুরের বিরুদ্ধে অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে টাকা নেওয়ার আরও বহু অভিযোগ আছে। আমি ভুক্তভোগী হওয়ায় দলীয় ছেলে-পেলে নিয়ে দোকানে যাই। সেখানে মফিজুর তাঁদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে তর্কবিতর্ক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। পরে ওই রাতেই স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মিমাংসা করা হয় বলে ঘটনাকালীন সময় জানান তিনি।
