মোঃ সৈয়দ মিয়া
জেলা প্রতিনিধি চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম-১৪ আসনে (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন আহমদকে চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় দলীয়ভাবে তাঁকে প্রার্থী ঘোষণার পর স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের একটি অংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, জসিম উদ্দিনের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জসিম উদ্দিনের আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে থাকা বিভিন্ন ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। ২০২৪ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চন্দনাইশ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর বাড্ডায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গত বছরের ৪ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন তিনি।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, চন্দনাইশ আসনে জসিম উদ্দিনকে বিএনপির প্রার্থী করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, জসিমের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং দলের ভেতরে তাঁর কোনো পদও নেই।
মনোনয়ন ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আনোয়ার চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জসিম আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষকতায় রাজনীতি করেছেন এবং সরকারের আমলের পুলিশের এক সাবেক আইজিপির ঘনিষ্ঠ ছিলেন। উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা তাঁর সঙ্গে ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। জসিমের মনোনয়ন বাতিলের দাবিও জানান এই নেতা।
একই দাবি জানান মনোনয়নপ্রত্যাশী ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম চৌধুরী। তাঁর ভাষ্য, বিএনপি যখন উপজেলা নির্বাচন বর্জন করেছিল, তখন আওয়ামী লীগের সমর্থনেই জসিম উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
অন্যদিকে জসিম উদ্দিনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে মনোনয়ন ঘোষণার পর চন্দনাইশে তাঁর সমর্থকদের উদ্যোগে আনন্দমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় চন্দনাইশ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সালাউদ্দিন চৌধুরী দাবি করেন, জসিম আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং তিনি সৌদি আরব মক্কা বিএনপির সহসভাপতি ছিলেন।
উল্লেখ্য, জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় দায়ের হওয়া একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৯০ জনের সঙ্গে তাঁকেও আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি পদ্মা ব্যাংকের ঋণখেলাপি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও কারাদণ্ডের আদেশ রয়েছে। হাইকোর্টে জামিন পেতে গিয়ে জাল পে-অর্ডারের ফটোকপি দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর তাঁর জামিন বাতিল করা হয়।
