বিএনপি থেকে নিষিদ্ধ গুম খুন ও ছাত্র হত্যা জড়িত সন্ত্রাসী খোকনের খুটির জোর কোথায়
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
গাজীপুর টঙ্গী পশ্চিম থানার ৫২ নং ওয়ার্ডের দাঁড়াইল এলাকা আজ এক ভয়ঙ্কর আতঙ্কের নাম—খোকন মিয়া। এক সময় স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের ছত্রছায়ায় দাপিয়ে বেড়ানো এই ব্যক্তি ৫ই আগস্টের পর হঠাৎ করেই রাজনৈতিক রঙ বদলে এখন বিএনপির নাম ভাঙিয়ে গড়ে তুলেছে নতুন এক সন্ত্রাসী সাম্রাজ্য।
বিএনপি থেকে নিষিদ্ধ খোকন মিয়া একাধিক হত্যা, গুম, অপহরণ, চাঁদাবাজি এমনকি জুলাই আন্দোলনের ছাত্র হত্যা মামলার আসামি হিসেবে অভিযুক্ত থাকা সত্ত্বেও তার অবাধ বিচরণ নিয়ে জনমনে তীব্র প্রশ্ন—কেন এখনও ধরা পড়ছে না খোকন, কার ছত্রছায়ায় চলছে এই বেপরোয়া তাণ্ডব? তার খুটির জোর কোথায়।
সম্প্রতি টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, খোকন ও তার সহযোগীরা দলের কেউ নয়, বরং ভুয়া পরিচয়ে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং তাদের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবুও বাস্তবে থামছে না তাদের অপকর্ম। পল্টন থানাসহ বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে রয়েছে ডজনখানেক মামলা। এলাকাবাসীর ভাষ্য—খোকন শুধু একজন সন্ত্রাসী নয়, সে একটি চলমান আতঙ্ক; জমি দখল, ব্যবসায়ীদের ওপর চাঁদাবাজি, প্রতিবাদ করলেই নির্যাতন—সবকিছু যেন তার কাছে নিয়মিত কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—কেন এত অভিযোগের পরও তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, প্রশাসনের নাকের ডগায় গুম খুন ও মাদক সিন্ডিকেট চালিয়ে যাচ্ছে প্রভাবের সাথে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অদৃশ্য প্রভাব আর টাকার খেলায় যেন থমকে গেছে আইনের চাকা। থানায় অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাচ্ছে না ভুক্তভোগীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগীর ক্ষোভ—“আমরা কি এই দেশের নাগরিক না? একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াবে, আর আমরা ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারবো না?”
এ বিষয়ে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খোকন মিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো তদন্তাধীন রয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান চলমান আছে।
তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাউকে ছাড় দেয় না এবং অভিযোগের ভিত্তিতে যথাযথ প্রমাণ সংগ্রহ করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। খুব শিগগিরই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তবে এলাকাবাসীর দাবি—এ ধরনের বক্তব্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বহুবার শুনেছেন, কিন্তু বাস্তবে এর প্রতিফলন দেখছেন না।
ফলে পুলিশের এমন আশ্বাসেও আস্থা রাখতে পারছেন না অনেকেই।
ছাত্র হত্যা মামলার আসামি হিসেবে অভিযুক্ত এবং কথিত ‘মাদক সাম্রাজ্যের’ নিয়ন্ত্রক খোকন মিয়ার এই লাগামহীন দৌরাত্ম্য বন্ধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ চায় এলাকাবাসী।
প্রশ্ন এখন একটাই—আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি কিছু মানুষ আইনের ঊর্ধ্বে? তাই সন্ত্রাসী খোকন মিয়াকে দ্রুত গ্রেফতার করে টঙ্গীবাসীর নিরাপত্তা ও শান্তি ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন অসংখ্য ভুক্তভোগী সহ স্থানীয় এলাকাবাসী।
দৈনিক সময় বাংলাদেশ পত্রিকার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রথম খন্ড।
