রাজাবাড়ি বাজার ইজারা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ
প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি জোরদার
মো. সজিব
বিশেষ প্রতিনিধি গাজীপুরঃ
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি সরকারি বাজার ইজারা কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম, সিন্ডিকেট বাণিজ্য ও আর্থিক দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নির্ধারিত নিয়ম উপেক্ষা করে একটি প্রভাবশালী চক্র পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে অতিরিক্ত প্রায় ৪০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে।
সূত্র জানায়, বাজারটির সরকারি নির্ধারিত মূল্য ছিল প্রায় ৪১ লাখ টাকা। কিন্তু দরপত্র প্রক্রিয়ায় ৯৩ লাখ টাকায় ইজারা চূড়ান্ত করা হয়। অর্থাৎ সরকারি মূল্যের চেয়ে প্রায় ৪১ লাখ টাকা বেশি দর দেখানো হলেও, এর মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ইজারাদারদের কাছ থেকে আলাদাভাবে আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অতিরিক্ত অর্থ যোগ হওয়ায় বাজারটির মোট কার্যকর মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। ফলে ইজারাদাররা তাদের বিনিয়োগ তুলতে ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি খাজনা ও বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ চাপিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, মোট ১৪ জন সিডিউল ক্রয় করলেও তাদের ইউনিয়ন বি এন পির নেতারা অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়নি। ইউনিয়ন বি এন পির দাবী ১৪ জনের মধ্যে যে তাদেরকে ৪০ লক্ষ টাকা দিবে তাকেই তারা শিডিউল জমা দিতে দিবে। সেক্ষেত্রে ১৪ জনের মধ্যে একমাত্র শেমু সরকার তাদেরকে ৪০ লক্ষ টাকা দিতে রাজি হয়।
এছাড়া, ইজারা পাওয়ার পর শেমু সরকারের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকার একটি চেক গ্রহণ করেন বাজার ইজারা কমিটির আহ্বায়ক শাহনূর সরকার। উইনিয়ন বি এন পি নেতৃবৃন্দ পরে এই অর্থ বাজার ইজারা কমিটির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাজার ইজারা কমিটির গঠন ছিল
আহ্বায়ক: শাহনূর সরকার
সদস্য সচিব: মহিদুল ইসলাম নয়ন, নাজমুল হুদা শাহীন।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপির এক নেতা কাজী আওলাদ সাংবাদিকদের বলেন, “আপনারা যারা বিষয়টি শুনেছেন, তা সত্য ও সঠিক। গাজীপুর-৩ আসনের এমপি ড. রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর নেতৃত্বে রাজাবাড়ি ইউনিয়নে যারা চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তারা আমাদের দলের কেউ হতে পারে না। এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া আছে এবং যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, ইউনিয়ন বিএনপির আরও একাধিক নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনের আওতায় আনা জরুরি। তারা বলেন, এটি শুধু কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং সাধারণ মানুষের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।
স্থানীয়দের দাবি, এই ইজারা প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কারণে এর প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর পড়বে। ইজারাদার বেশি দামে বাজার নেওয়ায় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বাড়তি খাজনা আদায় করা হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বৃদ্ধি পাবে, যা ভোক্তাদের ভোগান্তি বাড়াবে।
এছাড়া জানা যায়, একটি বাজার পরিচালনায় বছরে প্রায় ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। সে হিসেবে বছরে আনুমানিক ১ কোটি ১০-১৫ লাখ টাকা আয় হলেও প্রকৃত লাভ সীমিত থাকে। ফলে অতিরিক্ত দামে ইজারা নেওয়ার চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ জনগণের ওপরই পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু জানিয়েছেন, বিষয়টি ব্যক্তিগত বা কোনো গোষ্ঠীর দাবি নয়, বরং সাধারণ মানুষের দাবি হিসেবে দেখা উচিত। তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যেন বিষয়টি তদন্ত করে, সে দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের আরও দাবি, শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সজীব আহমেদ যেন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখেন এবং সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করেন।
এদিকে, স্থানীয়দের মতে ইজারা কার্যক্রম ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণও করা হয়েছে। এতে পুরো বিষয়টি পূর্বপরিকল্পিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
