রায়পুরে মাথা গোঁজার ঠাঁই চেয়ে বৃদ্ধা ছালেহার আকুতি
মোঃ আরিফ হোসেন
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভা-এর ১ নম্বর ওয়ার্ডে নদীর পাড় মসজিদের কাছে ডাকাতিয়া নদী কোলঘেঁষে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ৭৫ বছর বয়সী ছালেহা বেগম। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তার একমাত্র চাওয়া—মাথা গোঁজার মতো একটি নিরাপদ আশ্রয়।
প্রায় দুই দশক আগে স্বামীকে হারান ছালেহা। কোনো সন্তান না থাকায় স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই শুরু হয় তার নিঃসঙ্গ সংগ্রাম। নেই নিজের জমি, নেই স্থায়ী কোনো ঠিকানা। স্থানীয় এক সহৃদয় ব্যক্তির দেওয়া পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ একটি ঘরের কোণেই তার বর্তমান বসবাস। ভাঙা টিনের চাল, সুপারি পাতার বেড়া আর মাটির মেঝে—এই সামান্য আশ্রয়েই চলছে তার দিনরাত। একই ঘরে রান্না, খাওয়া ও ঘুম—সবকিছুই সেরে নিতে হয়।
শীতের কনকনে ঠান্ডা, গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহ কিংবা বর্ষার ঝড়বৃষ্টি—প্রতিটি ঋতুই তার জন্য দুঃসহ। গত বছরের জলোচ্ছ্বাসে নদীর পানি ঘরে ঢুকে পড়লে সারারাত পানির মধ্যে বসে কাটাতে হয়েছিল তাকে। এতে তার পায়ে ঘা হয়, যা এখনো পুরোপুরি সেরে ওঠেনি।
প্রতিবেদকের ডাক শুনে সুপারি পাতার বেড়া সরিয়ে ধীরে বাইরে এসে ছালেহা বলেন, “বাবা, আমার তো আর কেউ নাই। একটা ঘর পাইলে বাকি জীবনটা শান্তিতে কাটাইতে পারতাম। এখন রাত হলেই ভয় লাগে—কখন ঘরটা পড়ে যায়।”
স্থানীয়রা জানান, চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। অনেক সময় দুবেলা খাবারও জোটে না। প্রতিবেশীরা খাবার দিলে তবেই তার চুলায় আগুন জ্বলে। তাদের মতে, সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে একটি ছোট ঘরের ব্যবস্থা করা গেলে অন্তত জীবনের শেষ সময়টুকু নিরাপদে কাটাতে পারবেন ছালেহা।
এলাকাবাসীর দাবি, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগিয়ে এলে একজন অসহায় বৃদ্ধার মুখে হাসি ফোটানো কঠিন কিছু নয়। একটি ছোট ঘরই তার স্বপ্ন, একটি নিরাপদ আশ্রয়ই তার শেষ আশা।
নদীর পাড়ের ভাঙাচোরা সেই ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে ছালেহার কণ্ঠে ভেসে আসে দীর্ঘশ্বাস মেশানো আর্তি—“আমার আর বেশি কিছু লাগে না বাবা, একটা ঘর হলেই হইবো।”
মানবিক সমাজ গঠনে এমন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি। ছালেহার মতো অগণিত অদেখা মানুষের জীবনে একটু আলো পৌঁছে দিতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করছে এলাকাবাসী।
