রাজাবাড়ীতে ইউপি নারী সদস্যের বিরুদ্ধে জাল ওয়ারিশ সনদের অভিযোগ
মো: সজিব
গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি :
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য তাহরিম আখতার জেমির বিরুদ্ধে একই ব্যক্তির নামে ভিন্ন তথ্য ব্যবহার করে দুটি ওয়ারিশ সনদ প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসন তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ মে ২০২৬ তারিখে রাজাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ডা. মো. গোলাম মুর্শেদ মুরাদ স্বাক্ষরিত এক শোকজ নোটিশে বলা হয়, সংরক্ষিত ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য তাহরিম আখতার জেমি যথাযথ তথ্য যাচাই-বাছাই না করেই একই ব্যক্তির অনুকূলে ভিন্ন তথ্যসংবলিত দুটি ওয়ারিশ সনদের সুপারিশ করেছেন।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ও ৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পৃথক দুটি ওয়ারিশ সনদ ইস্যু করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, আবেদনকারীরা সঠিক তথ্য প্রদান করেননি এবং সংশ্লিষ্ট সদস্য তথ্য যাচাই ছাড়াই সুপারিশ করেছেন। ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনের দাবি, এ ঘটনায় পরিষদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে হাসান মিয়া নামে এক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, নারী সদস্য তাহরিম আখতার জেমি ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্থের বিনিময়ে জন্ম নিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন কাগজপত্র তৈরি করে দেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একই ব্যক্তিদের নামে ভিন্ন ভিন্ন জন্ম নিবন্ধন তথ্য ব্যবহার করে দুটি ওয়ারিশ সনদ তৈরি করা হয়। পরে এসব কাগজপত্র ব্যবহার করে রাজাবাড়ী মৌজার চিনাশখানিয়া গ্রামের একটি জমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত নারী সদস্য তাহরিম আখতার জেমি। তিনি বলেন, “আমি টাকা নিয়েছি এর প্রমাণ কী? কেউ অভিযোগ করলেই তো সেটা সত্য হয়ে যায় না। যথাযথ তদন্ত হলেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।”
ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
