গাজীপুরের জয়দেবপুরে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে
নির্যাতনের অভিযোগ
মোঃ সজিব
বিশেষ প্রতিনিধি গাজীপুরঃ
গাজীপুরের জয়দেবপুর থানায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন, মারধর এবং শিশু সন্তান আটকে রাখার অভিযোগ করেছেন ভাওয়াল মির্জাপুর পূর্বপাড়া এলাকার গৃহবধূ মোসা. আসমা আক্তার। একই ঘটনায় তার ভাই মো. সুরুজ্জামানও থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভাওয়াল মির্জাপুর পূর্বপাড়া এলাকার আসমা আক্তারের সঙ্গে রানীপুর এলাকার মো. সামছুলের প্রায় তিন বছর আগে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক বিবাহ হয়। সংসার জীবনে তাদের এক পুত্র সন্তান ইউসুফের জন্ম হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী সামছুল মাদকাসক্ত ও অলস জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন আসমা।
এছাড়া শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বিভিন্ন সময় তার বাবার বাড়ি থেকে টাকা ও আসবাবপত্র এনে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বিভিন্ন সময়ে তিনি নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও আসবাবপত্র এনে শ্বশুরবাড়ির হাতে তুলে দেন। এরপরও আরও ৫ লাখ টাকা দাবি করে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৫ মে রাতে স্বামী সামছুল তাকে ৫ লাখ টাকা এনে দিতে চাপ দেন। এতে রাজি না হলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও গলা চেপে হত্যার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে কোলে থাকা ৮ মাস বয়সী সন্তানকে ছিনিয়ে নিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দাবি করা টাকা না দিলে সন্তান ফেরত দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
অন্যদিকে আসমার ভাই মো. সুরুজ্জামান অভিযোগে জানান, তার বোনকে দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করা হচ্ছিল। নবজাতক সন্তান জন্ম দেওয়ার পরও তাকে মারধর করা হয় এবং চিকিৎসা নিতে বাধা দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় রানীপুর এলাকার মো. সামছুল, সেলিনা আক্তার, নূর মোহাম্মদ ও কামরুল হোসেনের বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
