শ্যামনগরে কৃত্রিম প্রজনন কর্মী উদ্ধার, আটক ৩
মাহবুব খোকন
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত কৃত্রিম প্রজনন (এআই) কর্মী অনিমেষ পরমান্য (৫০) কে তিন দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। তবে আলোচিত এ অপহরণ ঘটনার মূলহোতা হিসেবে অভিযুক্ত মোঃ আশরাফ ঢালী বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
সোমবার (৪ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের সুন্দরবন বাজার এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
আটককৃতরা হলেন মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের মিরগাং গ্রামের চিহ্নিত হরিণ শিকারি জব্বার গাজী, একই এলাকার শাহিনুর রহমান এবং গাবুরা ইউনিয়নের বনদস্যু হিসেবে পরিচিত মাহমুদুল হাসান ডন।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, জব্বার গাজী, মাহমুদুল হাসান ডন, শাহিনুর রহমানসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র সুন্দরবনের মাথাভাঙা নদীর ধলের খাল এলাকা থেকে অনিমেষকে অপহরণ করে। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য আনারুল ইসলাম ও আব্দুল হামিদ লাল্টুর সহযোগিতায় পুলিশের একটি দল রোববার রাতে সাড়াশি অভিযান শুরু করে। অভিযানের একপর্যায়ে অপহরণকারীরা সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শাহিনুর রহমানের মাধ্যমে অনিমেষকে মুন্সিগঞ্জের সুন্দরবন বাজারে ছেড়ে দেয়। এ সময় শাহিনুরকে আটক করা হয়।
তিনি আরও জানান, বেলা ১২টার দিকে স্থানীয়রা মিরগাং এলাকা থেকে জব্বার গাজী ও মাহমুদুল হাসান ডনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, অপহরণ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে রমজাননগর ইউনিয়নের টেংরাখালী গ্রামের মৃত আনছার ঢালীর ছেলে মোঃ আশরাফ ঢালীর নাম উঠে এসেছে। তিনি বর্তমানে কৈখালী ইউনিয়নের বৈশখালী গ্রামে বসবাস করছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, অনিমেষ অপহরণের পেছনে আশরাফ ঢালীর সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে সোমবার সকালেও তাকে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে বলে কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে। অনিমেষ উদ্ধার হওয়ার পর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
এলাকাবাসীর ধারণা, দ্রুত অভিযান পরিচালনা করলে অভিযুক্ত আশরাফ ঢালীকে অল্প সময়ের মধ্যেই গ্রেপ্তার করা সম্ভব। তাদের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তাকে আইনের আওতায় আনবে এবং এ ঘটনায় জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনিমেষ পরমান্য ও তার প্রতিবেশী ফজলুল হকের ছেলে খলিলের যৌথভাবে একটি জমি ক্রয়ের দিনক্ষণ নির্ধারিত ছিল রোববার। প্রায় ২২ লাখ টাকা মূল্যের ওই জমির দলিলের খসড়া চূড়ান্ত করতে শনিবার খলিলের নিযুক্ত প্রতিনিধি আমানত গাজীর সঙ্গে শ্যামনগর সদরে যাওয়ার কথা ছিল তার।
এরই মধ্যে শনিবার দুপুরে গরুর চিকিৎসার কথা বলে অনিমেষকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে তাকে সুন্দরবন ঘুরতে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে বনের ভেতরে নিয়ে গিয়ে জলদস্যুদের সহযোগিতায় জিম্মি করা হয়।
উদ্ধার হওয়া অনিমেষ পরমান্য জানান, তার প্রতিবেশী আশরাফ হোসেন তার ফুফাতো ভাইয়ের গরুর চিকিৎসার কথা বলে শনিবার সকালে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়। পরে গরু না দেখিয়ে সুন্দরবন ঘোরার কথা বলে তাকে বনের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে জিম্মি করা হয়।
তিনি আরও জানান, দুই দিন ধরে তাকে বনের মধ্যে একটি নৌকায় আটকে রাখা হয়। খাবার দেওয়ার সময় ছাড়া প্রায় সারাক্ষণ তার হাত বেঁধে রাখা হতো। অপহরণকারীরা তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় এবং বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে সন্দেহে তাকে গরাণের লাঠি দিয়ে মারধরও করা হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অপহরণের সঙ্গে জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
