সাবেক এমপি মহিউদ্দিন আহমেদের জানাজার নামাজ সম্পূর্ণ
মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি :
মুন্সিগঞ্জ-১ (সিরাজদিখান-শ্রীনগর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সিরাজদিখান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ এর জানাজার নামাজ সসম্পূর্ণ হয়েছে।
আজ বুধবার (১২ মার্চ) সিরাজদিখানের মালখানগর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়ে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
দীর্ঘদিন রাজনীতি ও জনসেবায় সক্রিয় থাকা এই প্রবীণ রাজনীতিক মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং শেষ বিদায় জানাতে ভিড় করছেন সর্বস্তরের মানুষ।
মঙ্গলবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তার ইন্তেকালে পরিবার, রাজনৈতিক সহকর্মী ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
মহিউদ্দিন আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে মুন্সিগঞ্জ অঞ্চলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে বহু বছর ধরে সিরাজদিখান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তিনি মুন্সিগঞ্জ-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে এলাকার উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়েও জেলার অন্যতম সংগঠক হিসেবে কাজ করেছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান। রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি এলাকায় অনেক গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষী তৈরি করেছিলেন।
পারিবারিক জীবনে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন। তার স্ত্রী সানদা আক্তার দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং বর্তমানে মালখানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।
তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রাতেই মরদেহ নিজ এলাকা মালখানগরে আনা হলে স্বজন ও এলাকাবাসীর কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রিয় এই রাজনীতিককে শেষবারের মতো দেখতে ছুটে আসেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও তিনি কিছুদিন নিজ এলাকায় অবস্থান করেছিলেন। পরে তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা দায়ের হলে শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুরোধে তিনি রাজধানীতে অবস্থান করছিলেন। তার মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
