কুড়িগ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিলের শুরুতেই অনিয়ম

প্রকাশিত: November 26, 2025 | সময়: 1:50 pm
IMG-20251126-WA0015

মোঃ রাহিমুল ইসলাম সজীব

নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হওয়া মিড-ডে মিল কর্মসূচির শুরুতেই নানান অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। অভিযোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নিম্নমানের খাবার সরবরাহ, রুটিন অনুসরণ না করে খাবার দেওয়া, কোনো কোনো ক্লাস্টারে পুরোপুরি খাবার না পৌঁছানো এবং শিক্ষা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা। রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার একাধিক বিদ্যালয়ে গিয়ে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অনিয়মে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতি বাড়ানো এবং পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সপ্তাহে পাঁচ দিন মিড-ডে মিল সরবরাহ করা হচ্ছে। রৌমারী উপজেলায় ১১৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৮,৯৯৮ শিক্ষার্থী এই সুবিধা পাওয়ার কথা। নিয়ম অনুযায়ী—রবিবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার বনরুটি ও সিদ্ধ ডিম; সোমবার রুটি ও ইউএইচটি দুধ; মঙ্গলবার ফর্টিফায়েড বিস্কুট ও মৌসুমি ফল সরবরাহ করার কথা। তবে অভিযোগ অনুযায়ী বাস্তবে রুটিন মানা হচ্ছে না।
উপজেলার যাদুরচর নতুন গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, যাদুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ বাউশমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর বারবান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে দেখা গেছে, চালুর দিন থেকেই রুটিন অনুযায়ী খাবার সরবরাহ হয়নি। সরবরাহ করা খাবারের মানও খারাপ—বিশেষ করে রুটি, কলা ও বিস্কুট খাওয়ার উপযোগী ছিল না বলে শিক্ষকরা জানান।
চর বারবান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফুল হক বলেন, “১৮ নভেম্বর ৭০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ডিম ও রুটি পাই। ১৯ নভেম্বর পাই শুধু রুটি। এরপর আজ পর্যন্ত কিছুই সরবরাহ হয়নি।”
যাদুরচর নতুন গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা বেগম বলেন, “প্রথম দিন রুটি ও কলা দিলেও পরিমাণ কম ছিল। দ্বিতীয় দিন শুধু রুটি, আজ আবার শুধু কলা দেওয়া হয়েছে, তাও একেবারেই কাঁচা। আগামী সাত দিনেও এসব কলা খাওয়ার উপযোগী হবে না। ঠিকাদারের লোক জানায়, তারা ৩০% কম মূল্যে কাজ নিয়েছে, তাই সমস্যা হচ্ছে।”
শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন। রৌমারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মঈনুল হোসেন বলেন, “১৮ নভেম্বর আইসল্যান্ড ট্রেডিং নামের প্রতিষ্ঠান মৌখিকভাবে জানিয়ে সরবরাহ শুরু করেছে। আমরা এখনও কোনো কার্যাদেশের কপি পাইনি। কিছু স্কুলে কাঁচা কলা সরবরাহের অভিযোগের পর তারা সরবরাহ বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে।”
সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আইসল্যান্ড ট্রেডিং-এর প্রতিনিধি রায়হান বলেন, “ময়মনসিংহ, রৌমারী ও রাজিবপুরে আমরা সরবরাহের দায়িত্ব পেয়েছি। খুব কম সময়ে কাজ শুরু করতে হওয়ায় কিছুটা বিশৃঙ্খলা হয়েছে। ১ ডিসেম্বর থেকে নিয়মমাফিক সরবরাহ শুরু হবে।”

সময় বাংলাদেশ এর সাক্ষাৎকারে জেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বলেন, “রৌমারী ও রাজিবপুরে সরবরাহে অনিয়মের তথ্য আমাদের কাছে এসেছে। ঠিকাদার আমাদের কোনো চুক্তিপত্র দেয়নি, সমন্বয়ও করেনি। তারা নিজেদের মতো করে কাজ করছে। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।”

প্রসঙ্গত, দেশের ৬২ জেলার ১৫০টি উপজেলায় সরকার মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালু করছে। কুড়িগ্রামের উলিপুর ও ফুলবাড়ী উপজেলা ছাড়া বাকি ৭ উপজেলায় প্রায় ১,২৮,০০০ শিক্ষার্থী এই কর্মসূচির আওতায় রয়েছে