জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস ও রহমত আলী রব্বানের স্মৃতিকথা

প্রকাশিত: August 5, 2026 | সময়: 5:23 pm
IMG-20260805-WA0033(1)

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস ও রহমত আলী রব্বানের স্মৃতিকথা

আসাদুল ইসলাম
কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধিঃ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গৌরবময় দিন ৫ আগস্ট। ফ্যাসিবাদমুক্ত এক নতুন বাংলাদেশের সূচনা এবং জুলাই বিপ্লবের রক্তঝরা স্মৃতিকে ধারণ করে উদযাপিত হচ্ছে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার অকুতোভয় সংগ্রামের মুখে তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসক শেখ হাসিনার পলায়নের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় জনগণের এই বিজয়।

এই ঐতিহাসিক দিনে জুলাই বিপ্লবের সকল বীর শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হচ্ছে।​ইতিহাসের সেই উত্তাল দিনগুলোতে কুষ্টিয়া অঞ্চলের রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের ত্যাগ ছিল অপূরণীয়। আওয়ামী স্বৈরাচারী সরকারের চরম নিপীড়নের সময়ও কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রহমত আলী রব্বান রাজপথে থেকে সাহসের পরিচয় দিয়েছেন। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাতে মিরপুর থানা পুলিশ যখন তাকে বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়, তখন চরম রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখে দাঁড়িয়েও তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বীরদর্পে ঘোষণা করেছিলেন— “আমি পালাবো না, রহমত আলী রব্বান কখনো পালায় না।” সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে এই অবস্থান তৎকালীন সময় রাজপথের কর্মীদের বুক ভরা সাহস জুগিয়েছিল।​একইভাবে ৫ আগস্টের সেই স্মৃতি কুষ্টিয়া মডেল থানায় বন্দী থাকা রাজনৈতিক বন্দীদের জন্য ছিল জীবনের এক নতুন সূর্যোদয়ের মুহূর্ত।

ফ্যাসিবাদের নীলনকশার অংশ হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়া অনেক স্বাধীনিকামী মানুষ সেদিন বন্দিশালায় মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিলেন। পরবর্তীতে আন্দোলনকারী বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার ওপর তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর আক্রমণের পর পরিস্থিতির পটপরিবর্তনে মডেল থানার গেট ভেঙে সাধারণ মানুষ আটকে পড়া বন্দীদের উদ্ধার করে।

মুক্ত বাতাসে ফিরে আসে নির্যাতিত মানুষের প্রাণ, আর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে খুনি শাসকের পলায়নের বার্তা।​জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে অন্তরে ধারণ করে এক প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা যে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি, তার মূল ভিত্তি ছিল ছাত্র-জনতার ত্যাগ ও অদম্য সাহস। আজ ৫ আগস্টের এই ঐতিহাসিক দিনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সকল বীর শহীদদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। পাশাপাশি স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের যেকোনো চক্রান্ত নস্যাৎ করতে রাজপথের প্রতিটি নেতাকর্মীকে সর্বদাই ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

গণ-অভ্যুত্থানের এই চেতনাকে ধারণ করে আগামীর বাংলাদেশ বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মুক্ত চর্চার প্রতীক হয়ে উঠবে—এমনটাই প্রত্যাশা দেশবাসীর।