বরগুনায় খাল থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীর মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার
মো. এনামুল হক
ক্রাইম রিপোর্টারঃ
বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না গ্রামে খাল থেকে মো. শামীম ব্যাপারী (৪০) নামে এক মৌসুমি ব্যবসায়ীর মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার সকালে এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।নিহত শামীম ব্যাপারী গৌরীচন্না গ্রামের মোনসের আলী ব্যাপারীর ছেলে। স্বজনদের দাবি, রোববার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি আর ফিরে আসেননি। রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।সোমবার সকালে বাড়ির সামনের খালের পাড়ে রক্তের দাগ ও শামীমের জুতা দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় খালে তল্লাশি চালিয়ে কচুরিপানার নিচ থেকে তার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়।নিহতের মেয়ে জানান, প্রথমে রক্তের দাগ ও বাবার জুতা দেখতে পান তারা। পরে খালের পানিতে কচুরিপানার নিচে বাবার মাথাবিহীন মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।
নিহতের বাবা মোনসের আলী ব্যাপারী বলেন, “রাতে ছেলে ঘরে না ফেরায় বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেছি। সকালে খালের পাড়ে রক্তের দাগ দেখে তল্লাশি চালিয়ে মরদেহ পাই। আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, তাদের বিচার চাই।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বরগুনা সদর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধারে খালে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হলেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
বরগুনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবদুল আলীম বলেন, “খাল থেকে মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহের পেটেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মাথা উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস প্রায় দুই ঘণ্টা অনুসন্ধান চালিয়েছে, তবে এখনও পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”স্বজনদের দাবি, শামীমের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। তারা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হবে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

