রামগড়ে পৃথক পৃৃৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

প্রকাশিত: May 18, 2026 | সময়: 4:16 pm
IMG-20260518-WA0194

রামগড়ে পৃথক পৃৃৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২
রামগড় প্রতিনিধিঃ
খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় পৃথক ঘটনায় দুইজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে এক ব্যক্তি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন এবং পরে একই ঘটনার সঙ্গে জড়িত একটি বাসের চালকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৮ মে ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৫ মিনিটে খাগড়াছড়ি থেকে ঢাকাগামী শান্তি পরিবহনের একটি বাস রামগড় থানাধীন পাতাছড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চাষীনগর এলাকায় পৌঁছালে বাসটির একটি চাকা হঠাৎ ব্লাস্ট হয়ে যায়।
পরে চালক বাসটি রাস্তার বাম পাশে দাঁড় করিয়ে চাকা পরিবর্তনের কাজ শুরু করেন। এসময় কয়েকজন যাত্রী বাস থেকে নেমে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
ঠিক সেই সময় খাগড়াছড়ি হতে ঢাকাগামি শ্যামলী এন.আর ট্রাভেলসের একটি এসি বাসের খোলা ডালার আঘাতে শাহ আলম (৩৬) নামে এক যাত্রী গুরুতর আহত হন।
এতে তার পেটের নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। নিহত শাহ আলম খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার শান্তিনগর এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে।
এ ঘটনায় জোনায়েদ (২৫) নামে আরও এক যাত্রী আহত হন। তিনি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান এলাকার মহিউদ্দিনের ছেলে। আহত অবস্থায় তাকে রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
খবর পেয়ে নাকাপা পুলিশ ক্যাম্প ও রামগড় থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত শাহ আলমের মরদেহ উদ্ধার করে রামগড় উপজেলা হাসপাতালে পাঠায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্র জানায়, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও সড়ক দুর্ঘটনাজনিত আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে।
পরবর্তীতে নিহতের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত শেষে মরদেহ তার ভাই মোহাম্মদ নাছির উদ্দীনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে একই দিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নাকাপা বাজার এলাকার একটি যাত্রী ছাউনির পেছনে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি ব্যাগের ভেতর থাকা মোবাইল ফোন ও জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করে।
নিহত ব্যক্তি মো. রব সেখ (৫১)। তিনি পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার আলাদীপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং শ্যামলী এন.আর ট্রাভেলসের ওই বাসের চালক ছিলেন বলে নিশ্চিত করেন জালিয়াপাড়া শ্যামলী কাউন্টারের ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন।
পুলিশ জানায়, রব সেখের মরদেহের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে মরদেহ খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
ঘটনায় জড়িত দুই বাসের চালক, হেলপার ও সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।
নিহত শাহ আলমের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে রামগড় থানা পুলিশ।