শ্রীপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে
বাজার ইজারায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ
মো. সজিব
বিশেষ প্রতিনিধি গাজীপুরঃ
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি সরকারি বাজার ইজারা কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ব্যাপক অনিয়ম, সিন্ডিকেট বাণিজ্য ও আর্থিক দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহনূর সরকার গংদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, নির্ধারিত নিয়ম উপেক্ষা করে নিজ দলীয় প্রভাব খাটিয়ে রাজাবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির নেতা শাহনূর সরকার গং একটি প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় পুরো ইজারা প্রক্রিয়াটি তাদের নিয়ন্ত্রণ রেখে প্রায় ৪০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে দাবি করেন এলাকাবাসী।
খোঁজ নিয়ে জানায়, বাজারটির ইজারার সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাহিরে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ইজারাদারদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে আদায়ের মাধ্যমে প্রভাবসালী সিন্ডিকেটের নির্বাচিত সেমু সরকার নামে একজনকে বাজার ইজারা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অতিরিক্ত অর্থ যোগ হওয়ায় বাজারটির মোট কার্যকর মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। ফলে ইজারাদাররা তাদের বিনিয়োগ তুলতে ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি খাজনা ও বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ চাপিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইজারা কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী একাধিক ব্যক্তি জানায়, বাজার ইজারায় ১৪ জন সিডিউল ক্রয় করলেও বিএনপি নেতা শাহনূর সরকার গং জোর পূর্বক ভাবে তাদের পছন্দের ব্যক্তি ছাড়া অন্য কাউকে শিডিউল জমা দিতে দেয়নি ।
শুধুমাত্র বাড়তি ৪০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে শেমু সরকারকে রাজনৈতিক প্রাভাবে শিডিউল জমা দিয়ে তাদের সাজানো নিয়মে ইজারা কার্যক্রম সম্পর্ণ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা কাজী আওলাদ সাংবাদিকদের কাছে ঘটনাটি সত্যতা স্বীকার করে এই অনিয়মের সাথে জড়িত একাধিক ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেন কিন্তু পরবর্তীতে কোনো এক অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে তাহার স্বীকারোক্তি বক্তব্যটি তিনি অস্বীকার করেন।
অন্যদিকে, ইউনিয়ন বিএনপির আরও একাধিক নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনের আওতায় আনা জরুরি।
তারা বলেন, এটি শুধু কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং সাধারণ মানুষের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু জানিয়েছেন, বিষয়টি ব্যক্তিগত বা কোনো গোষ্ঠীর দাবি নয়, বরং সাধারণ মানুষের দাবি হিসেবে দেখা উচিত।অভিযোগের সত্যতা পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
ঘটনাটি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদ পত্রে প্রকাশের পর স্থানীয় জনমনে ব্যপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ৪০ লক্ষ টাকার অনিয়মে জড়িতের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে ইতিমধ্যে একটি অভিযোগ পত্র হয়েছে বলেও জানা যায়।
অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা সাহানুর সরকারের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে যথাযত কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
গাজীপুর প্রতিনিধি মোঃ সজিবের অনুসন্ধানী রিপোর্টের প্রথম খন্ড।

