সাতক্ষীরায় জিএসএ নেতা আলফাতের উদ্যোগে ঈদ বস্ত্র বিতরণ
সাতক্ষীর প্রতিনিধিঃ
১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) ২৯ শে রমজান সকাল ৭ টা থেকে বেলা ১০ ঘটিকা পর্যন্ত পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাতক্ষীরা সদর সহ শ্যামনগরে গরীব, অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের মাঝে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে প্রায় ২শত মানুষের মাঝে ঈদ বস্ত্র বিতরণ করেছে গণসংহতি আন্দোলন (জিএসএ) পক্ষ থেকে।
গণসংহতি আন্দোলন (জিএসএ) সাতক্ষীরার সংগঠক মোঃ আলফাত হোসেনের নিজস্ব অর্থায়নে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে গণসংহতি আন্দোলন (জিএসএ)প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির পক্ষ থেকে ঈদ বস্ত্র বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জিএসএ সাতক্ষীরা শাখার নেতা মামুনুর রহমান, মাহফুজ আলম,মনিরুল ইসলাম,রবিউল ইসলাম,বেবী নাজনীন, আহাদ মল্লিক সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সংগঠনের কর্মীরা।
ঈদ বস্ত্র বিতরণকালে মোঃ আলফাত হোসেন বলেন, “ঈদ মানেই আনন্দ, আর সেই আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে আমরা এই ক্ষুদ্র প্রয়াস নিয়েছি। সমাজের অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের লক্ষ্য।
তিনি আরও জানান, “পরিবর্তন সম্ভব, পরিবর্তন চাই”—এই স্লোগানকে ধারণ করে গণসংহতি আন্দোলন সবসময় মানুষের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাবে।
এ সময় তিনি গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি এবং নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হোসেন রুবেলের জন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন।
উপস্থিত সাধারণ মানুষ এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।
(জিএসএ) নেতা আলফাত হোসেন বলেন, সমাজের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সকল সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কিন্তু সাতক্ষীরায় সৎলোকের শাসনের অভাবে এসব প্রান্তিক জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মূলত, সাধারণ মানুষের কল্যাণ এবং ঈদকে উপভোগ্য ও আনন্দঘন করে তোলার জন্য সাতক্ষীরার জনপ্রতিনিধিদের কর্মসূচি থাকা দরকার।
সব শ্রেণির মানুষ যাতে সমানভাবে ঈদের আনন্দকে নিজেদের জন্য ভাগাভাগী করতে পারে সেজন্য সার্বিক পদক্ষেপ গ্রহণ করার দায়িত্ব দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের এই জনপদের জনপ্রতিনিধিদের। কিন্তু জনপ্রতিনিধিদের স্বজনপ্রীতি ও অপরাজনীতি আর ব্যর্থতার কারণেই আজ আমরা সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের জন্য একটু হলেও এগিয়ে আসছি।
যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। কারণ, সাতক্ষীরার প্রয়োজন সাংগঠনিকভাবে সমাধান সম্ভব নয়। তাই ঈদকে আনন্দঘনসহ সতক্ষীরার সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে সাতক্ষীরাকে কল্যাণ সাতক্ষীরা পরিণত করার বিকল্প নেই।
তিনি আর্ত-মানবতার কল্যাণ ও মুক্তির জন্য ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বছর ঘুরে আমাদের মাঝে ফিরে আসছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। সর্বসাধারণের জন্য ঈদকে আনন্দঘন করার দায়িত্ব জনপ্রতিনিধিদের । কিন্তু আমাদের সাতক্ষীরায় এখনও কল্যাণ সাতক্ষীরা প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় এ দায়িত্ব এখন সমাজের সক্ষম, বিদ্যবান ও আত্মসচেতন মানুষের ওপর।
তিনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ঈদের মূল ধারার আনন্দে সম্পৃক্ত করতে সবাইকে স্ব স্ব অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

