লালমাইয়ে আনসার সদস্যদের ভাতা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার কুমিল্লা:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদের ভাতা বিতরণে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কুমিল্লা জেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জেলা কমান্ডারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কয়েকজন আনসার সদস্য।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, লালমাই উপজেলার বড়তুলা গ্রামের (ডাকঘর: দুর্গাপুর বাজার) বাসিন্দা আবদুল লতিফ, যিনি স্থানীয়ভাবে আনসার ভিডিপি দলের দায়িত্বে রয়েছেন, তিনি নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে কিছুসংখ্যক আনসার ভিডিপি সদস্যকে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা প্রদান করেন। তবে একই দায়িত্ব পালন করা সত্ত্বেও অনেক সদস্যকে ওই ভাতা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগকারীরা জানান, নির্বাচনী দায়িত্ব পালন শেষে তারা প্রত্যাশিত সম্মানী বা ভাতা পাওয়ার আশায় ছিলেন। কিন্তু একই দায়িত্বে অংশ নিয়েও অনেকেই নির্ধারিত অর্থ না পাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তারা মনে করছেন, ভাতা বিতরণে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির কারণে প্রকৃত প্রাপকদের একটি অংশ তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তি আবদুল লতিফের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে দলনেতার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা। অভিযোগকারীদের মতে, এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি অব্যাহত থাকলে আনসার বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
লিখিত অভিযোগে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন— রুমা, মরিয়ম, আলম, মোবারক, শাহ আলম, ওমর সানী, সেলিম, আজাদ, মাফিয়া, বিউটি ও রাশেদা প্রমুখ।
এ বিষয়ে লালমাই উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে এবং তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ভুক্তভোগীরা আশা করছেন, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে তাদের ন্যায্য ভাতা পরিশোধ করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

