লামায় বনবিভাগের যোগসাজশে চলছে অবৈধ কাঠ পাচারের হিড়িক

প্রকাশিত: March 7, 2026 | সময়: 3:14 pm
IMG-20260307-WA0088

লামায় বনবিভাগের যোগসাজশে চলছে অবৈধ কাঠ পাচারের হিড়িক

মোঃ রাসেল
জেলা প্রতিনিধি বান্দরবান

বান্দরবানের লামা উপজেলার ২ নং লামা সদর ইউনিয়ন পৌপা মৌজা ও রুপসীপাড়া ইউনিয়নের লামা মৌজার নাইখ্যংমুখ, ডলুছড়ি খালের আগা ছোট ছোট নদী ও ঝিরি পথে অবৈধ কাঠ পাচারকারি সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যদের নেতৃত্বে নতুন কৌশল অবলম্বন করে চলছে অবৈধ সেগুন- গামারী কাঠ পাচারের হিড়িক।

গোপন সূত্রে জানা যায়,লামা বনবিভাগের কিছু অসাধু কমকর্তা ও অবৈধ কাঠ পাচারকারি সিন্ডিকেটের সদস্যদের যোগসাজশে বিকেল ৫ টার পর থেকে দৈনিক ১০০/১৫০ গাড়ি অবৈধ কাঠ ও জ্বালানি লাকড়ি ইটভাটা সহ বিভিন্ন জায়গায় পাচার করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে লামার পৌপা হ্যাডমেন পাড়ার পর থেকে শুরু করে বেশ কিছু গ্রাম গিলা পাড়া খ্রিস্টান পাড়া, কাইরম পাড়া ও রুপসীপাড়া ইউনিয়নের লামা মৌজার ভিতরে বড় বড় আকৃতির সেগুন /গামারী সহ বিভিন্ন প্রজাতির লালি কাঠের বাগান কেটে সাবাড় করেছে স্থানীয় প্রভাবশালী বনখেকোরা। এছাড়া এই দুই ইউনিয়নে আশেপাশে অন্তত ১০০/১৫০ টি বাগান কেটে সাবাড় করেছে বনখেকোরা।

গোপন সূত্রে আরো জানা যায়, নাম গোপন রাখা বেশ কয়েকজন কাঠ ব্যবসায়ী বলেন, আমরা আমাদের বাগান কাটা ও কাঠের গাড়ি নেয়ার সময় আমাদের মালামাল পরিবহনে বনবিভাগ সহ স্থানীয় প্রশাসনকে মোটা অংকের টাকার মাধ্যমে ম্যানেজ করে মালামাল পরিবহন করি।

তাহলে এখন প্রশ্ন থাকে এই মোটা অংকের টাকা কার পকেটে যায় ….??

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বনবিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার পকেট ভারি করতে অবৈধ কাঠ পাচারকরি সিন্ডিকেট সদস্যদের রাতের অন্ধকারে কাঠ পাচারের সহযোগিতা কিসের লক্ষণ …??

সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব…??

রাষ্ট্রের দায়িত্ব থাকা রক্ষক যখন ভক্ষকের রূপ ধারণ করে সেইখানে বন-সম্পদ ও সর্বস্তরের জনসাধারণের আস্থা দুটি হুমকির মুখে পড়বে….!!

বাংলাদেশের বনসম্পদ সংরক্ষণে প্রণীত , বন আইন ১৯২৭ (বাংলাদেশ সংশোধিত) অনুযায়ী সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অনুমতি ছাড়া গাছ কাটা, অপসারণ, মজুত বা পরিবহন দণ্ডনীয় অপরাধ। আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অবৈধভাবে বনজ সম্পদ আহরণ, সংরক্ষণ বা পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা, অর্থদণ্ড এবং কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

এছাড়া কাঠ পরিবহনের ক্ষেত্রে বৈধ পারমিট, ট্রানজিট পাস বাধ্যতামূলক। স্থানীয় সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী কাঠ পাচারকারি সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যরা গোপনে লামার পৌপা মৌজা ও লামা মৌজার বিভিন্ন জায়গায় থেকে কাঠ কেটে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টহল, স্থানীয় জনসম্পৃক্ততা এবং আইন প্রয়োগে কঠোরতা বৃদ্ধি না করলে বন উজাড় রোধ কঠিন হবে।

সাম্প্রতিক বন বিভাগের তৎপরতার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হলেও টেকসই ফল পেতে হলে অবৈধ কাঠ পাচারচক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। অন্যথায় বনসম্পদ রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।