শ্যামনগরে মানবতার মুখোশে আসাদের রমরমা ব্যবসা

প্রকাশিত: February 26, 2026 | সময়: 6:44 pm
Screenshot_20260226_225415_InShot

শ্যামনগরে মানবতার মুখোশে আসাদের রমরমা ব্যবসা

মো: মনিরুল ইসলাম
সুন্দরবন প্রতিনিধি :

কথিত মানবতার ফেরিওয়ালা সেচ্ছাসেবীর ভূমিকা কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক লক্ষ্যকে হাতিয়ার করে নিজের আখের গোছানো কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নে নিজেকে মানবিক আসাদ নামে পরিচয় দেওয়া দক্ষিণ কৈখালী গ্রামের রফিকুল গাজীর পূত্র আসাদুজ্জামান আসাদ।

কৈখালী একতা যুব সংঘের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ যেন এক হরিলুটে মত্ত।

অনিয়ম দুর্নীতি করেও কাউকে তোয়াক্কা করার সময় নেই মানবতার মুখোশধারী আসাদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দেশের বৃত্তবান ব্যক্তি, শত শত প্রবাসীর অনুদান ও একাধিক ফাউন্ডেশন থেকে অসহায় দুঃস্থদের জন্য দেওয়া বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, স্বজনপ্রীতিসহ নানা অনিয়ম দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ থাকলেও স্থানীয় অসাধু ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় বিভিন্ন মহল ম্যানেজ করেই চলছে আসাদের সেচ্ছাসেবী মানবতার নামে রাম রাজত্ব।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায় এলাকার প্রভাবশালী জাফর গাজীর যোগসাজশে আসাদ দেশ বিদেশ ছাড়াও জেলা ও উপজেলা থেকে সরকারি সহায়তা পাশাপাশি এনজিও সংস্থা এবং ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সহায়তা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নামে অর্থ ও বিভিন্ন সহায়তা আত্মসাৎ করেন এই আসাদ। কিন্তু বর্তমানে মানবিকতার আড়ালে তার স্বজনপ্রীতি আর দুর্নীতি অনিয়মে ফুসে উঠেছে স্থানীয় অসহায় দারিদ্র পরিবারগুলো।

শুনা যাচ্ছে আসাদকে আর্থিক অনুদানকারী একটি সস্থার পক্ষ থেকে তার এই কর্মকাণ্ডে ক্ষিপ্ত হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিতে।

যার কারণে অনেক কিছুই ফাঁস হচ্ছে আসাদ সম্পের্ক এবং  নানা ধরনের স্বজনপ্রীতি ও অনুদান আত্মসাৎ এর একাধিক তথ্য।

চতুর আসাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে গুচিয়ে নিচ্চে তার নিজের আখের।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, আসাদ অসহায়দের প্রাপ্য সহায়তা দুঃস্থ পরিবারের মাঝে বিতরণ না করে তার পিতা, স্ত্রী, শাশুড়ি ও নিজের আত্মীয়-স্বজনের ভেতরে আর্থিক সহায়তা বিতরণ করতেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান, জাফর গাজীর ইশারায় অনুদানের অর্থ তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও রাজনৈতিক সুবিধা নিতে নিজ দলিও লোকজনদের কেও পাইয়ে দেন অনুদানের অর্থ।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে দক্ষিণ কৈখালী মহিলা হাফিজি খানার এক করুণ হৃদয়বিদারক একটি ভিডিও তুলে ধরেন একজন বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন নামক ফেসবুক পেইজ থেকে।

ভিডিওতে দেখা যায়, মাদ্রাসার ছাত্রীরা দুইটা খেজুর ও এক গ্লাস পানি দিয়ে ইফতার করার দৃশ্য এবং মাদ্রাসার পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক নিজ বক্তব্যে বলেন, আমি দুইটা খেজুর আর পানি দিয়ে ছাত্রীদেরকে এই রমজানে ইফতারি করাচ্ছি এবং কোনোকোনো দিন শেষ রাতে না খেয়েও থাকতে হয় তো তাদের। এই ভিডিও বার্তার মাধ্যমে মানুষের কাছে সাহায্য সহযোগিতার দাবী জানানো হয় ভিডিওটিতে।
কিন্তু এই ভিডিও সম্পর্কে অনুসন্ধানে জানা যায়, দক্ষিণ কৈখালী একতা যুব সংঘের নির্বাহী পরিচালক আসাদুজ্জামান আসাদের সাজানো নাটক ও অনুদানের টাকা কারসাজি করতে তার উদ্যোগে কোমলমুখি ছাত্রীদের দিয়ে সাজানো হয় এমন নাটক।
আসাদের গ্রামবাসীর দাবি, প্রবাসী ও দেশের বৃত্তবানদের থেকে অনুদানের অর্থ হাতিয়ে নিতে দক্ষিণ কৈখালী একতা যুব সংঘ মানবিক নামধারী সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে তার এই অপর্কমকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন বেকার জীবনে থাকা প্রতারক আসাদ।

তার গ্রামে খোজ নিয়ে জানা যায়, অর্থ উপার্জনের মত কোন গ্রহনযোগ্য পেশা নেই আসাদের এবং নেই তেমন পারিবারিক অর্থ সম্পদ কিন্তু, নিজেকে মানবতার ফেরিওয়ালা ও সেচ্ছাসেবী কার্যক্রমকে পুঁজি করে বিভিন্ন সংগঠন হতে আসা অসহায় দারিদ্র পরিবারের নাম ভাঙ্গিয়ে অনুদানের টাকা মেরে খাওয়া সহ বিভিন্ন তদবীর বাণিজ্য করেই বর্তমানে বিলাসী ভাবে চলাফেরা করেন আসাদ।

তার এই অপকর্মের বিষয়ে এলাকাবাসীর দাবী করে বলেন, মানবতার কথা বলে আসাদুজ্জামন আসাদ মানুষ ঠকানোর যে কাজ চালাচ্ছে তার বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি তার মিথ্যে আশ্বাসে দেশ ও প্রবাসের মানুষ যেনো তাকে আর্থিক সাহায্য না পাঠাই তার জোড়ালো দাবী জানান এলাকাবাসী।