সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটার অডিটোরিয়াম দীর্ঘ কাল ধরে পরিত্যক্ত
বিশেষ প্রতিনিধি সাতক্ষীরাঃ
বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত খুলনার পাটকেলঘাটার এক মাত্র অডিটোরিয়ামটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চার দশক আগে নির্মিত এই স্থাপনাটি সংস্কারের অভাবে দীর্ঘ কাল ধরে পরিত্যক্ত। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক নেতারা এটি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ফলে স্থানীয় সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকা-স্থবির হয়ে পড়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে,১৯৭৯ সালে তৎকালীন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আফতাব উদ্দীন এমপির উদ্যোগে পাটকেলঘাটা হাইস্কুল চত্বরে এই অডিটোরিয়ামটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। স্কুলটির জমিদাতা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত ১০ সদস্যের কমিটির তত্ত্বাবধানে ১৯৮০ সালে এটি উদ্বোধন করা হয়। ১ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতার এই অডিটোরিয়ামে ছিল বিশাল স্টেজ এবং দুটি রেস্ট রুম। উদ্বোধনের পর থেকে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল এই ভবনটি। তবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে এর টিনের চাল ফুটো হয়ে পানি পড়ছে, জানালা-দরজা চুরি হয়ে গেছে এবং পুরো ভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থায় ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান,১৯৯৬ সাল থেকে অডিটোরিয়ামটির নিয়ন্ত্রণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অধীনে চলে যাওয়ার পর থেকেই মূলত এর অবহেলা শুরু হয়। ২০০৮ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান এটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে ২০১১ সালে দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, নাম মাত্র সংস্কার করে সিংহ ভাগ অর্থই লোপাট করা হয়েছে,যা নিয়ে তৎকালীন সময়ে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছিল। পরবর্তীতে মহাজোট সরকারের সংসদ সদস্য মুস্তফা লুৎফুল্লাহ একাধিক বার নির্বাচিত হলেও অডিটোরিয়ামটি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি বলে স্থানীয়দের অভিমত। অন্য দিকে, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ দিদার বখৎ আক্ষেপ করে বলেন,এটি তালা উপজেলার একটি সম্পদ ছিল। নব্বইয়ের দশকে সরকার পতনের কারণে আমার পক্ষে এটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি।
অডিটোরিয়ামের বর্তমান বেহাল দশা সম্পর্কে পাটকেলঘাটা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন,এটি সংস্কার করার মতো পর্যাপ্ত অর্থ আমাদের স্কুল ফান্ডে নেই।
বিষয়টি নিয়ে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারেকুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,এই মুহূর্তে অডিটোরিয়াম সংস্কারের জন্য কোনো সরকারি বরাদ্দ আমাদের কাছে নেই। তবে বরাদ্দ পাওয়া গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।
স্থানীয় জাসদ নেতা আবুল কালাম আজাদ মিলন ও প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের মতে,নেশাখোর আর চোরেরা এখন ভবনের আসবাবপত্র ও জানালা নিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ না থাকলে ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনাটি অচিরেই মাটির সঙ্গে মিশে যাবে।

