গাজীপুরে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক, টাকার ভাগ ডিএনসি ও পুলিশ সদস্যদের পকেটে

প্রকাশিত: January 3, 2026 | সময়: 11:26 am
IMG-20260103-WA0004

 

এম এ হোসেন

বিশেষ প্রতিনিধি:

আইনশৃঙ্খলা-রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের পরও কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না মাদকের বিস্তার।

গাজীপুরের বিভিন্ন জায়গায় মিলছে মাদক, প্রকাশ্যে বিক্রির কারণে দিন দিন মাদকসেবী বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। মাদক কেনাবেচার পাইকারি হাটে পরিণত হয়েছে গাজীপুরের বেশ কয়েকটি এলাকা, উপজেলা ও ইউনিয়ন। এছাড়াও সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রকাশ্যে মাদক ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাকের ডগায় মাদক কারবারিরা দেদারসে এসব করে বেড়াচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, এসব মাদক আখড়া থেকে পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতাদের কেউ কেউ মাসোহারা পান। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে মাদক কারবার আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে। এদিকে মাদক সেবনকারী ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারী দিয়েছে পুলিশ। মাদকের অভিশাপ থেকে স্থায়ী মুক্তি চান গাজীপুরবাসী।

রাজধানীর কাছের জেলা হওয়ায় গাজীপুরের ৫টি মহাসড়ককে মাদক পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার করছে ব্যবসায়ীরা। এসব রুট দিয়ে ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ নানা মাদকদ্রব্য সরবরাহ করছে তারা। যা ছড়িয়ে পড়ছে জেলার বিভিন্ন স্থানে।

সরেজমিনে দেখা যায়, গাজীপুরের টঙ্গী বাজারসংলগ্ন হাজি মাজার বস্তি, সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা এই বস্তি গাজীপুরে মাদক বিক্রির সবচেয়ে বড় আখড়া হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় বাসিন্দা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও গাজীপুরে মহানগর পুলিশের বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, টঙ্গীর হাজি মাজার বস্তিসহ গাজীপুর মহানগরে ২২টি বস্তিতে বিক্রি হয় ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক। এছাড়াও জেলার ৫টি উপজেলার আনাচে-কানাচে অবাধে বিক্রি হচ্ছে মাদক। এসব স্থানে একপ্রকার প্রকাশ্যে বিক্রি হয় মাদক। কাপাসিয়া, কালীগঞ্জ, শ্রীপুর, কালিয়াকৈর উপজেলায় মাদক এখন শাক-সবজির মতোই মিলছে। যুবকদের পাশাপাশি মাদকের আগ্রাসন গ্রাস করেছে স্কুল-কলেজগামী তরুণদেরও। শখের বসে মাদক গ্রহণ করে পরবর্তী সময় মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে তারা। বিভিন্ন রকমের জন্মদিনের উৎসব, ধর্মীয় উৎসবগুলোতে কেন্দ্র করে রাতভর গোপন আস্তানায় জলসা বসায় এসব স্কুল-কলেজের ছাত্ররা। অভিজাত ও আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের অনেক সন্তান এ মাদকের নেশায় ভয়াবহ রকম আসক্ত

তথ্য বলছে, দেশে প্রায় ২৮ ধরনের মাদক প্রচলিত। আন্তর্জাতিক মাদক রুট গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল ও গোল্ডেন ক্রিসেন্টের কাছাকাছি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই মাদকের ঝুঁকিতে থাকে বাংলাদেশ। তাছাড়া দেশের ৩২টি সীমান্তবর্তী জেলার বেশ কয়েকটি অরক্ষিত। ফলে শহর থেকে গ্রাম, হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। যে কারণে অলিগলি থেকে পাড়া মহল্লা, বস্তি থেকে গগনচুম্বী অট্টালিকা সব খানে এখন সহজলভ্য মাদক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু পুলিশ সদস্য জানান, বিভিন্ন থানার এসআই, ওসি মাদক কারবারিদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায় করেন। যার ভাগ সেখানকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পকেটেও যায়। ফলে মাদক ব্যবসায়ীরা অনেকটা দাপটের সাথেই ব্যবসা করেন।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, রাজনৈতিক দলের প্রভাব আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরব সমর্থনে মাদক ব্যবসা এখন অলিতে-গলিতে। মাদকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে সরকারকে।
এদিকে মাদকের বিষয়ে কথা বলার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।