ঝিনাইগাতিতে ব্র্যাকের কৃত্রিম প্রজননের বাছুর প্রদর্শনী, প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন আশার আলো
এম,এ,কবির
শেরপুর প্রতিনিধিঃ
শেরপুরের ঝিনাইগাতি উপজেলায় বাছুর প্রদর্শনী প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর ও প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা এক পরিবেশ।
ব্র্যাক কৃত্রিম প্রজনন এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে সোমবার (৪ মে) দুপুরে চেঙ্গুরিয়া আনছার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত খামারিরা তাদের সযত্নে লালিত বাছুর নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।
সাদা ও গোলাপি রঙের নির্ধারিত টি-শার্ট ও ক্যাপ পরে অংশ নেওয়া কৃষকদের উপস্থিতি মাঠজুড়ে সৃষ্টি করে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য। দর্শনার্থীদের ভিড়, অংশগ্রহণকারীদের উচ্ছ্বাস এবং সারিবদ্ধ বাছুর প্রদর্শনী মিলিয়ে পুরো আয়োজনটি রূপ নেয় এক অনন্য গ্রামীণ উৎসবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ইউএলও) ফয়জুল করিম বুলবুল এবং জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ডিএলও) রেজাউন হক ভূঁইয়া।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক কৃত্রিম প্রজনন এন্টারপ্রাইজের রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার মোঃ আবুল হোসেন খান ও এরিয়া সেলস ম্যানেজার মোঃ সামিউল হক।
এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রাণিসম্পদ খাতের সংশ্লিষ্টরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রদর্শনীতে বাছুরের শারীরিক গঠন, স্বাস্থ্য, পরিচর্যা, পুষ্টি ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক লালন-পালন পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
প্রতিযোগিতা শেষে সেরা খামারিদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়, যা অংশগ্রহণকারীদের মাঝে বাড়তি উৎসাহ সৃষ্টি করে।
আয়োজকরা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ কৃষকদের মধ্যে উন্নত জাতের গবাদিপশু উৎপাদন, আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা এবং কৃত্রিম প্রজনন প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ বৃদ্ধি করবে। এর মাধ্যমে প্রাণিসম্পদ খাত আরও শক্তিশালী হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
অংশগ্রহণকারী কৃষকরা বলেন, এ আয়োজন শুধু প্রতিযোগিতা নয়—এটি তাদের জন্য শেখার, অভিজ্ঞতা বিনিময়ের এবং নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।
ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ও নিয়মিতভাবে এমন আয়োজনের দাবি জানান তারা।
