হোসেন হাওলাদার
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি :
একসময় যে খালগুলো আড়িয়ল এলাকার কৃষি জমির প্রাণ ছিল, সেগুলোর দখল, ভরাট ও দূষণের ফলে আজ পুরো অঞ্চলেই দেখা দিয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা।
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার আড়িয়ল-টঙ্গীবাড়ীসহ আশপাশের এলাকায় পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়ায় আলু চাষসহ মৌসুমি কৃষিকাজ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষা মৌসুমে খালে পানি জমে থাকলেও নিষ্কাশনের কোনো পথ না থাকায় কৃষিজমিতে দীর্ঘদিন পানি আটকে থাকে। এতে জমি প্রস্তুত করা ও নির্ধারিত সময়ে আলু রোপণ সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে দেরিতে আবাদ করছেন, কেউ কেউ আবার জমি ফাঁকাই রেখে দিচ্ছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, খাল দখল ও মুখ বন্ধ করে স্থাপনা নির্মাণের কারণে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। কোথাও খালের চিহ্নই নেই, আবার কোথাও জমে থাকা নোংরা পানিতে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যাটি চলে আসছে, কিন্তু খাল রক্ষা বা পুনরুদ্ধারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। তারা দ্রুত খাল দখলমুক্ত করে সংস্কার ও পানিনিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পৃতীশ চন্দ্র পাল বলেন, টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বেশিরভাগ ইউনিয়নে প্রায় ৯০ শতাংশ জমিতে আলুসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ শেষ হয়েছে। তবে আড়িয়ল ইউনিয়নে পানিনিষ্কাশন সমস্যার কারণে আবাদে পিছিয়ে পড়েছে।
তিনি জানান, খালের মুখ বন্ধ ও দখলের কারণেই মূলত এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, খাল পুনরুদ্ধার ও সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ ও নিয়মিত তদারকি ছাড়া এই সংকট কাটবে না বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
খাল দখল ও জলাবদ্ধতার কারণে আড়িয়লে শুধু কৃষি নয়, পুরো এলাকার জীবনযাত্রাই পড়েছে চাপে।
দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আসন্ন মৌসুমে আলু উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
